রংপুরের মাহিগঞ্জ সাতমাথা থেকে শতাধিক ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। কাউনিয়া ও পীরগাছার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
India-Pakistan face to face in exciting fight night
Bangladesh will get as much money even if they do not win any match in the World Cup
Who is this Ashutosh storming the IPL?
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে মাহিগঞ্জ সাতমাথায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমঝোতার কারণে দেশে ধারাবাহিকভাবে প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “দেশের জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে, কারণ শাসকগোষ্ঠী একের পর এক প্রহসনের নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি পরস্পরের সহযোগিতায় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম রেখেছে।”
গণসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি
গণসংযোগ শেষে আখতার হোসেন কাউনিয়ার টেপামধুপুর বাজারের কারবালা মাঠে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। সেখানে এনসিপির রংপুরের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য
আখতার হোসেন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ বছরের পর বছর ফ্যাসিবাদের শিকারে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কারসাজির ফলে জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগ সরাসরি দায়ী।”
তিনি আরও বলেন, “যে কোনো দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অধিকার থাকে না। বাংলাদেশেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এবং গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চালিয়েছে। এদের নিবন্ধন বাতিল করে রাজনীতি থেকে বিদায় জানানো উচিত।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দল গোছানোর উদ্যোগ
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন জেলায় আমাদের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং জনগণের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।”
তিনি জানান, “আমাদের লক্ষ্য গণপরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করে এনসিপি নিবন্ধিত দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি
নির্বাচন ঘিরে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমি জনগণের সেবা করতে চাই। এখানে যে অবিচার, অনিয়ম ও ফ্যাসিবাদী শক্তির দাপট চলছে, তার অবসান ঘটানো প্রয়োজন। এনসিপি গণমানুষের দল হিসেবে মাঠে থাকবে এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে।”
আখতার হোসেনের এই গণসংযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, এনসিপি সরকারবিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে। দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত না হলেও, সাংগঠনিকভাবে নিজেদের বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।