সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত পেশাদার বাহিনী এবং এর প্রতিটি কার্যক্রম সরকার ও জনগণের জ্ঞাতসারে পরিচালিত হয়। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে (অফিসার্স অ্যাড্রেস) তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, সেনাপ্রধান দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার, গুজব এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেনা কর্মকর্তারাও অনলাইন মাধ্যমে এই আলোচনায় অংশ নেন।
ঈদে টানা ৯ দিনের ছুটি সরকারি চাকরিজীবীদের
অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন, ডাক্তাররা শুধু বলছেন আল্লাহ ভরসা
ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব, রাখবেন রোজা
সেনাবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা ও সৈনিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী যে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, তা দেশ ও জাতি চিরকাল মনে রাখবে।" তিনি সকলকে ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য সতর্ক করেন। তিনি আরও বলেন, "এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা উসকানিদাতাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে সাহায্য করে।"
ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান দৃঢ়ভাবে বলেন, "বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু দেশে কোনো জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি। অনেকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা থেকে দূরে থাকতে হবে। পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দেশের মানুষ ও দেশের স্বার্থ সেনাবাহিনীর কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।"
ঈদ আসন্ন উল্লেখ করে সেনাপ্রধান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "যদি কোনো কারণে কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়, তবে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।"
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, "জাতিসংঘ মহাসচিব শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেছেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতি যেভাবে সেনাবাহিনী মোকাবিলা করেছে, তারও প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।"
জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরকালে কক্সবাজারে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ইফতার আয়োজনে সহায়তার জন্য সেনাপ্রধান রামু সেনানিবাসকে ধন্যবাদ জানান।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর গ্যারি পিটারসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ সম্পর্কে সেনাপ্রধান বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর সেনাবাহিনীর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।"
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে সেনাপ্রধান বলেন, "গত রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা মালঞ্চে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।"