আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে তাফসিরুল কুরআনের মাহফিলে বক্তব্য দেবেন ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি। মাহফিলটি শহরের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ২২টি স্থান থেকে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
টঙ্গীতে চলছে জোড় ইজতেমার তৃতীয় দিনের বয়ান
রোজার ফজিলত সম্পর্কে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
ইমামতিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিলো ফ্রান্স সরকার
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে আয়োজক সংগঠন আল ইসলাম ট্রাস্ট সংবাদ সম্মেলন করে মাহফিলের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আয়োজকরা জানান, ইতোমধ্যে সার্কিট হাউজ মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। দুই লাখ বর্গফুটের প্যান্ডেলসহ পুরো মাঠটি ব্যবহারকারীদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মাহফিলের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিজানুর রহমান আজহারি কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অংশ নন। তিনি একজন বিশ্ববরেণ্য ইসলামিক স্কলার এবং বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ।
তিনি আরও জানান, লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশিত হওয়ায় কিছু অসুবিধা হতে পারে, তাই নগরবাসীর কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মাহফিলের দিন শহরে যানবাহন চলাচলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের আগেই বড় যানবাহন আটকে দেওয়া হবে, এবং মাসকান্দা, আকুয়া বাইপাস ও রহমতপুর বাইপাসে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা চলবে, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। কামরুল হাসান মিলন সকলকে বাইপাস ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। তবে মাহফিলে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের দামি জিনিসপত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে এবং পুরুষদেরও মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এই মাহফিলকে সফল করতে বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামি দলগুলো একযোগে কাজ করছে। জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ এর সঙ্গে আয়োজকদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মাহফিল উপলক্ষে ১০ থেকে ১৫ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটতে পারে। এর জন্য সার্কিট হাউজ মাঠ, জিলা স্কুল মাঠ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল মাঠসহ উমেদ আলী মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে। নারীদের জন্য জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এছাড়া, ২২টি স্থানে বড় পর্দা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ৩টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৪ শতাধিক ওজুখানা, ওয়াশরুম এবং পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। বর্তমানে মাহফিলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।