ফিলিপাইনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মিন্দানাও দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। মিন্দানাও দ্বীপের মোরো মুসলিমদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে রয়েছে ইসলামের গভীর প্রভাব। রমজান মাস জুড়ে তাদের জীবনযাত্রায় এক অন্যরকম উদ্দীপনা দেখা যায়। রমজান মাসে তাদের জীবনযাত্রায় কিছু বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই মসজিদগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়। মসজিদের আশেপাশে তৈরি করা হয় অস্থায়ী খাবারের দোকান। এছাড়াও রমজান মাস উপলক্ষে বিশেষ কিছু খাবারের আয়োজন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘কারি কারি’ নামক এক বিশেষ ধরনের মাংসের পদ। এছাড়া থাকে নানা রকম ফল ও শরবত।
যাকাত যে আট শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়
চারঘাটে উপজেলা জামায়াতের যুব সম্মেলন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
হজ পালনে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে দিল সৌদি আরব
রমজান মাসে ফিলিপিনো মুসলিমরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা রকম সমাজসেবামূলক কাজেও অংশ নেয়। রমজানে মিন্দানাও দ্বীপের মসজিদগুলো হয়ে ওঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল। সেখানকার ধনী ব্যক্তিরা দরিদ্রদের জন্য ইফতার ও সেহরির আয়োজন করেন। মসজিদগুলোতে জাকাত ও ফিতরার অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং ইমামের নেতৃত্বে তা দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
রমজান মাসে তারাবির নামাজের পর ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা রঙিন পোশাক পরে হাতে লণ্ঠন নিয়ে রাস্তায় বের হয়। তারা দল বেঁধে গান গাইতে গাইতে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যায়। এই দৃশ্য মিন্দানাও দ্বীপের রমজান মাসের অন্যতম আকর্ষণ। সেহরীর সময় একদল মানুষ ড্রাম বাজিয়ে ও গান গেয়ে সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। এই প্রথাটি সেখানকার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তবে ফিলিপাইনের মুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে এখনো নানা রকম বাধা-বিপত্তি রয়েছে। মিন্দানাও দ্বীপের মোরো মুসলিমরা তাদের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। অবশ্য বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তাদের একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার ফলে তারা কিছুটা স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে।