Dhaka, শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

রমজানের শেষ মুহূর্তের আমল

সিয়াম ইসলাম

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
Bangla Today News

রমজান মাস শেষ হতে চলেছে, আর এই পবিত্র মাসের শেষ সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল ও কার্যকলাপ রয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই আমলগুলো আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত অর্জনে সহায়ক হবে এবং রমজানের মহিমান্বিত সময়কে আরো বিশেষ করে তুলবে।

 

*আমলের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা*

 

মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে প্রতিনিয়ত ইবাদত ও আমল করে থাকে, তবে কেউই ভুলমুক্ত নয়। রমজানে বিশেষ আমল করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই, এই ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের ইবাদত ও আমলগুলো কবুল করেন, সেই দোয়া করা উচিত।

 

*পূর্ণ বছর ইবাদতে কাটানোর প্রতিজ্ঞা*

 

রমজান একটি বিশেষ মাস, যেখানে সারা মাস ইবাদত করা হয়। তবে, রমজান মাস শেষ হওয়ার পরও পুরো বছরের জন্য আমল ও ইবাদতের প্রতিজ্ঞা করা উচিত। এই প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে বছরজুড়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, হাস্যোজ্জ্বল ও সদালাপী হওয়া এবং অন্যান্য সুন্নত পালন করা জরুরি। রমজানেই এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে বছরব্যাপী ইবাদত করতে হবে।

 

*সদকাতুল ফিতর আদায় করা*

 

সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। ঈদুল ফিতরের আগেই এটি আদায় করতে হয়। তবে, রমজান মাসেই তা আদায় করা যায়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) স্বাধীন-দাস, পুরুষ-নারী সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফিতরা ওয়াজিব করেছেন। যা ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে আদায় করতে হবে। (বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)

 

*ঈদের রাতের ইবাদত*

ঈদের রাত অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতময়। এই রাতটি অনেকেই অযথা কাটিয়ে দেন, কিন্তু ফুকাহায়ে কেরাম দুই ঈদের রাতেই জাগ্রত থাকার সুন্নত উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ঈদের রাতের গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ এই রাতে ইবাদত করা জান্নাত লাভের কারণ হতে পারে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাতের ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়, সেগুলো হলো: জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত, ৯ তারিখের রাত (আরাফাত দিবসের রাত), ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি: ২/৯৮, হাদিস : ১৬৫৬)

 

এই আমলগুলো পালন করে আমরা আল্লাহর কাছ থেকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি।








 

Leave a comment