বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে দারুন এক সুখবর দিয়েছেন দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের সাবেক খনিমন্ত্রী ইব্রাহিম হাসান মুরাদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইব্রাহিম হাসান মুরাদ বলেন, “সিন্ধু নদের পাঞ্জাব অংশের অববাহিকা এলাকা ৩২ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই খনিতে অন্তত ২৮ লাখ ভরি (প্রায় ৩৩ টন) স্বর্ণ মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান বাজারে এই পরিমাণ স্বর্ণের দাম ৮ হাজার কোটি পাকিস্তানি রুপি। পাকিস্তানের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে অব পাকিস্তান (জিএসপি) এই জরিপ পরিচালনা করেছে। সিন্ধু নদের পাঞ্জাবের তীরবর্তী অঞ্চলের ১২৭টি জায়গার নমুনা সংগ্রহ ও তা পরীক্ষার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে এসেছে জিএসপি।”
US sues Apple for monopoly over smartphones
The US had already warned Russia that the attack might happen
‘যেন বোমা হামলা হয়েছে’, দাবানল নিয়ে বললেন বাইডেন
“আগামী দিনে এই মহামূল্যবান হলুদ ধাতুর উত্তোলন শুরু হলে তা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন মাইল ফলক তৈরি করবে। কর্ম সংস্থান থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে নতুন মঞ্চ পাবে ভবিষ্যত প্রজন্ম,” টুইটবার্তায় বলেন মুরাদ।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে পাকিস্তানের বেকারত্বের হার ভারত বা বাংলাদেশের থেকে অনেক বেশি। এই বেকারদের একটি বড় অংশই নারী। সামাজিক ভাবে রক্ষণশীলতা থাকায় পশ্চিমের দেশটিতে মেয়েদের ঘরের বাইরে বেরিয়ে চাকরি বা ব্যবসা করা সহজ নয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে পাকিস্তানে বেকারত্বের হার ১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সাত শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (গ্রস ডোমেস্টিক প্রডাক্ট বা জিডিপি) বৃদ্ধির হার স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয়তা পূরণের পক্ষে পর্যাপ্ত নয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতি বছর ৫০ লক্ষ করে বাড়ছে পাকিস্তানের জনসংখ্যা। ফলে সেখানে প্রতি বছর বছরে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়ছে। এ ব্যাপারে শেহবাজ শরিফ সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে বেকারত্বের হার কমাতে মূল্যস্ফীতি কমপক্ষে ৬ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বর্ণের খনির সন্ধান মিলেছে চীনে। সেখানে লুকিয়ে থাকা সোনার পরিমাণ আনুমানিক হাজার টন বলে জানা গেছে। চীনা সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, খনিতে লুকিয়ে থাকা হলুদ ধাতুর আনুমানিক বাজারদর ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
এত দিন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণখনির মালিক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানকার ‘সাউথ ডিপ’ খনিতে রয়েছে ৯০০ টন স্বর্ণ। ২৯ নভেম্বরের পর এই মুকুট লাভ করেছে চীন।