সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে নজিরবিহীন বাগবিতণ্ডার ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। ওই ঘটনার পর ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক চুক্তি হওয়ার কথা ছিল সেটিও বাতিল হয়ে যায়।
তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। সোমবার (৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
The 414-year-old Atiya Mosque stands as a witness of time
Argentina is entering the field in the morning, who are in the eleven
ভারতের উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, গত শুক্রবার কোনও ধরনের চুক্তি ছাড়াই হোয়াইট হাউস ছেড়ে আসলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন খনিজ চুক্তিতে “সই করতে প্রস্তুত” তার দেশ।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে “গঠনমূলক সংলাপ” করতে ইচ্ছুক। তার ভাষায় “আমি কেবল চাই, ইউক্রেনের অবস্থানটা শোনা হোক।”
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চাই আমাদের অংশীদাররা মনে রাখুক— এই যুদ্ধে আগ্রাসী কারা।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার তাকে ডাকে, তাহলে ফের তিনি সেখানে যেতে প্রস্তুত। আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই সঙ্গে নিজের শর্তও শুনিয়ে রেখেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, তার কথাও শুনতে হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে।
সম্প্রতি খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যেই হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন জেলেনস্কি। সেখানে ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে বৈঠক হয় তার। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনেই তাদের তিনজনের মধ্যে বেশ কিছুটা সময় ধরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে, যা নজিরবিহীন ঘটনা।
এর ফলে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এমনকি মধ্যাহ্নভোজ না করেই হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যান জেলেনস্কি। এই ঘটনার পর ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট সরাসরি ব্রিটেনে চলে যান এবং সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পরে লন্ডনে একটি সম্মেলনেও যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই রোববার বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষর করতে এখনও প্রস্তুত তিনি।
এদিকে সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন জেলেনস্কি। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমরা ইউরোপ থেকে পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। একটি বিষয়ে সকলেই একমত, সকলেই শান্তি চায়। সেই কারণেই আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দরকার। এটাই ইউরোপের অবস্থান।”
তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই আমরা আমেরিকাকেও গুরুত্ব দিই। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক সাহায্য পেয়েছি। তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ইউক্রেনের প্রতিরোধ পুরোটাই তার বন্ধু দেশগুলোর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। সেই সাহায্য তারা করছে ইউক্রেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে। আমরা শান্তি চাই। বিরামহীন যুদ্ধ চাই না। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এই শান্তির চাবিকাঠি।”