পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান 'দমনপীড়ন' এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে, মার্কিন কংগ্রেসে একটি যুগান্তকারী বিল উত্থাপিত হয়েছে। এই বিলটি, 'পাকিস্তান ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট' নামে পরিচিত, যার লক্ষ্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
এই বিলটি উত্থাপনের পেছনে রয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো উইলসন এবং ডেমোক্রেট কংগ্রেসম্যান জিমি প্যানেট্টা। বিলটি বর্তমানে কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং বিচার সংশ্লিষ্ট কমিটিদ্বয়ের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
ইতালির যে শহরে বসবাস করলেই পাবেন ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা
ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতা নিহত
সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত অন্তত ৫
এই বিলের মূল প্রস্তাবনা হলো, পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশটির সেনাপ্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগনিটস্কি মানবাধিকার জবাবদিহি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীনে, মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব।
বিলে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হোক। তবে, যদি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে এবং 'অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত সকল রাজনৈতিক বন্দিকে' মুক্তি দেয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
ইমরান খান, যিনি ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন, তার মুক্তির জন্য তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে লবিং করছে। এই বিলটি সেই প্রচেষ্টার একটি ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুনেও কংগ্রেসে একই ধরনের একটি প্রস্তাবনা পাস হয়েছিল, যেখানে পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তবে, বাইডেন প্রশাসন তখন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই নতুন বিলটি সেই আগের প্রস্তাবনারই একটি ধারাবাহিকতা, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।