Dhaka, শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫

স্বপ্নপূরণে যোগ দেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে, যুদ্ধের মিসাইলে সব শেষ!

সিয়াম ইসলাম

প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ০৪:১০ এএম
Bangla Today News

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলার তরুণ ইয়াসিন শেখের স্বপ্ন ছিল সৈনিক হওয়ার। দেশের মাটিতে সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করতে গিয়ে তিনি সৈনিকের জীবন বেছে নেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়। গত ২৭ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় ইয়াসিন এবং তার চার সহকর্মীর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

 

পরিবার ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর পায় ঈদের পরদিন, যখন রাশিয়ায় অবস্থানরত তার বন্ধু মেহেদী তাদের জানায়। ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

ইয়াসিন শেখ ছিলেন গৌরীপুরের ডৌহাখলা গ্রামের মৃত সত্তর মিয়ার ছোট ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে দুই জন আগেই মারা গেছেন। মা ও বড় ভাইকে নিয়ে ছিল তার পরিবার। তার বড় ভাই রুহুল আমিন, একজন ব্যবসায়ী, ইয়াসিনের পড়াশোনা ও বিদেশ যাওয়ার খরচ বহন করেন।

 

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে অংশগ্রহণ করার ছবি ও ভিডিও ইয়াসিন নিয়মিত তার ফেসবুকে পোস্ট করতেন। গত ১ মার্চ, বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে, তিনি রাশিয়ায় যাওয়া, সেনাবাহিনীতে যোগদান এবং তার স্বপ্ন পূরণের একটি ভিডিও আপলোড করেন।

 

ভিডিওতে ইয়াসিন জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি রাশিয়ার একটি চীনা কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করেন। সেপ্টেম্বরে তিনি অফার লেটার পেয়ে রাশিয়ায় যান। মস্কো থেকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দূরে ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরি করার পর, তিনি অনলাইনে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হিসেবে যোগদানের জন্য আবেদন করেন।

 

ইয়াসিন আরও জানান, দেশের মাটিতে না হলেও বিদেশে সৈনিক হয়ে তিনি তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। ভিডিওতে তিনি আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন এবং তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। যুদ্ধে মারা গেলেও তার কোনো আফসোস থাকবে না বলেও তিনি জানান। ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট করার এক মাসের মধ্যেই ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় তার মৃত্যু হয়।

 

ইয়াসিনের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম রবি জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ইয়াসিন ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ান ভাষা শেখেন। পরে বন্ধুর সহায়তায় তিনি রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে চাকরি পান। সবকিছু ঠিকঠাক চললেও, রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর সবকিছু পাল্টে যায়।

 

তিনি আরও জানান, রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময়, রাশিয়ায় পাঠানো এজেন্সির লোকজন ইয়াসিনের মা ও বড় ভাইকে গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অনাপত্তিপত্রে তাদের স্বাক্ষর নেয়। গত ২৬ মার্চ ইয়াসিন তার মায়ের সাথে শেষবারের মতো কথা বলেন এবং কয়েকদিনের মধ্যেই দশ লাখ টাকা পাঠাবেন বলে জানান।

 

ইয়াসিনের পরিবারের সদস্যরা তার মৃতদেহের অবস্থা বা দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি। ছেলের ছবি নিয়ে মায়ের কান্না থামছে না, এবং পরিবারের সদস্যরা শোকে বিহ্বল। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

 

 













 

Leave a comment