Dhaka, শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫
logo

বাংলাদেশকে ৪টি মহাসাগরগামী জাহাজ কেনার অর্থ দেবে চীন


Md Jahid   প্রকাশিত:  ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:০৭ এএম

বাংলাদেশকে ৪টি মহাসাগরগামী জাহাজ কেনার অর্থ দেবে চীন

 

 

দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। বৃহস্পতিবার চীন জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দেবে।

 

 

 

চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং দেশটির হাইনান প্রদেশের বোয়াও শহরে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং জানান, ‘রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে চীন আশাবাদী।’

 

 

 

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস আবারও বাংলাদেশের ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এ যোগ দিতে পেরে গর্ব অনুভব করছে।

 

 

 

ঢাকা চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সহায়তা চেয়েছে। সেই সঙ্গে চীন থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে ১-২ শতাংশে এ নামিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে। চীনা অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ চীনা উৎপাদন শিল্পের স্থানান্তরকে স্বাগত জানাবে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন এবং সৌর প্যানেল শিল্পের ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগ দেখতে চায় বাংলাদেশ।

 

 

 

উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার পরও ২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করবে।

 

 

 

তিনি জানান, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আম চুক্তিভিত্তিক আমদানির জন্য চীন একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী গ্রীষ্মেই চীনে বাংলাদেশি আম রপ্তানি শুরু হবে। এছাড়াও কাঁঠাল, পেয়ারা এবং জলজ পণ্য আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।

 

 

 

চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তির সুযোগ দেবে বলে জানান ডিং শ্যুয়েশিয়াং। বর্তমানে কয়েক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।

 

 

 

উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, চীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য চারটি মহাসাগরগামী জাহাজ কেনার অর্থায়ন করবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যেতে চীন সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

 

 

 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস চীনের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের এই বৈঠক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি নতুন যুগের সূচনা করি।’

 

 

 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, রেল ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

 

 

 

পুরো কন্টেন্টি ইউনিক ভাবে লিখে দিন

 

 

 

 

বাংলাদেশ ও চীন তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার, চীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে হাইনান প্রদেশের বোয়াও শহরে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে, দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়াও, এই বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে, তারা তাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং বলেন, "রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "চীন আশা করে, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।"

 

বৈঠকে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বাংলাদেশের 'ওয়ান চায়না' নীতির প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এ যোগ দিতে পেরে গর্বিত।

 

ঢাকা চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সহায়তা চেয়েছে। সেই সাথে, তারা চীন থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে ১-২ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়াও, চীনা অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ চীনা উৎপাদন শিল্পের স্থানান্তরকে স্বাগত জানাবে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন এবং সৌর প্যানেল শিল্পের ক্ষেত্রে।

 

উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং জানান, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার পরেও ২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, চীন বাংলাদেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করবে।

 

তিনি জানান, গত বছর চীন বাংলাদেশ থেকে আম চুক্তিভিত্তিক আমদানির জন্য একটি প্রোটোকল স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী গ্রীষ্মেই চীনে বাংলাদেশি আম রপ্তানি শুরু হবে। এছাড়াও, চীন কাঁঠাল, পেয়ারা এবং জলজ পণ্য আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তির সুযোগ দেবে বলে জানান ডিং শুয়েশিয়াং। বর্তমানে, কয়েক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।

 

উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, চীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য চারটি মহাসাগরগামী জাহাজ কেনার অর্থায়ন করবে। এছাড়াও, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যেতে চীন সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস চীনের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "আজকের এই বৈঠক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।"

 

তিনি আরও বলেন, "আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি নতুন যুগের সূচনা করি।"

 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, রেল ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।