সিয়াম ইসলাম প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:২১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মুক্তির ডাক দিয়ে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ এবং ইইউর ওপর ২০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
বুধবার (২ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশি সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করার ঘোষণায় শঙ্কায় দেশের পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। তার কারণ বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। এক লাফে তা ৩৭ শতাংশ করার ঘোষণা দিলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, মূলত যা তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রার শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা।
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'বাংলাদেশ অন্যতম রপ্তানি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণায় বাংলাদেশ সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হবে। পোশাক রপ্তানি থেকে সামগ্রিক রপ্তানি বাজারেই এর প্রভাব পড়বে।'
শুল্কারোপ ঘোষণাকালে বক্তব্যের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আজ খুব ভালো খবর থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।
দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নতুন শুল্কারোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, 'এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপ ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। আর চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরাইলি পণ্যে ১৭ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে।
পুরো কন্টেন্টি ইউনিক ভাবে লিখে দিন যাতে কারো সাথে না মিলে যায়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব বাণিজ্যে একটি বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন অর্থনীতির স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপ করা হবে, যার মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের "অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস" হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, "এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে।"
নতুন শুল্ক কাঠামোর অধীনে, বিভিন্ন দেশের জন্য শুল্কের হার নিম্নরূপ:
চীন: ৩৪ শতাংশ
ভারত: ২৬ শতাংশ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০ শতাংশ
বাংলাদেশ: ৩৭ শতাংশ
পাকিস্তান: ২৯ শতাংশ
ভিয়েতনাম: ৪৬ শতাংশ
শ্রীলঙ্কা: ৪৪ শতাংশ
তাইওয়ান: ৩২ শতাংশ
জাপান: ২৪ শতাংশ
দক্ষিণ কোরিয়া: ২৫ শতাংশ
থাইল্যান্ড: ৩৬ শতাংশ
সুইজারল্যান্ড: ৩১ শতাংশ
ইন্দোনেশিয়া: ৩২ শতাংশ
মালয়েশিয়া: ২৪ শতাংশ
কম্বোডিয়া: ৪৯ শতাংশ
যুক্তরাজ্য: ১০ শতাংশ
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩০ শতাংশ
ব্রাজিল: ১০ শতাংশ
সিঙ্গাপুর: ১০ শতাংশ
ইসরায়েল: ১৭ শতাংশ
বাংলাদেশের জন্য এই শুল্ক বৃদ্ধির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড় শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ, যা এক লাফে ৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।