Dhaka, শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

রমজানে অসহায় মানুষের জন্য ক্রিকেটার বিথীর অনন্য উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ মার্চ, ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম
Bangla Today News

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে সমাজের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা দিশেহারা। এরই মধ্যে মাহে রমজানে হু হু করে বাড়ছে ইফতারসামগ্রীর দাম। এমন পরিস্থিতিতে অসহায়, দুস্থ, কর্মহীন, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ মধ্যবিত্ত মানুষরা পড়েছেন সমস্যায়। যাদের এক দিন কাজ না করলে চুলায় হাড়ি ওঠে না, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বিগত সময়ের মতো এ বছর অন্যান্য উদ্যোগে মানবিক কার্যক্রমে নেমেছেন ক্রিকেটার আরিফা জাহান বিথী।

 

মাহে রমজানের প্রথম দিনেই জেলার বদরগঞ্জে ২০০ জনের অধিক এতিম ও বৃদ্ধ মা-বাবাকে ইফতার করিয়েছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইফতার বিতরণ, ইফতার পার্টিসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করার উদ্যোগ নিয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবী নারী।

রোববার (২ মার্চ) বিকেলে রংপুর সিটি করেপারেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘনবসতিপূর্ণ স্টেশন পাটবাড়ি ও খেড়বাড়ি এলাকায় অসহায় দুস্থ, এতিম ও বৃদ্ধ মা-বাবাসহ কর্মহীন দুই শতাধিকের বেশি রোজাদার ব্যক্তিকে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করে আরিফা জাহান বিথীর প্রতিষ্ঠিত উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি অ্যান্ড হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।

পুরো রমজান মাসে ছয় হাজার রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিথী। তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। বিথী তার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে অনেকের কাছ থেকে সাড়া পান।

আরিফা জাহান বিথী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এতিম, দুস্থ, অসহায় মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সেই লক্ষ্য নিয়েই মাহে রমজানে রোজাদারদের ইফতার করানোসহ ইফতারসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ২০০ রোজাদারকে ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হবে। এভাবে পুরো রমজানে ছয় হাজার রোজাদারকে ইফতার দেওয়া হবে।

সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ইফতারের একেকটা প্যাকেটের খরচ পড়েছে ৮০ টাকা। পোলাও, মুরগি, জিলাপি, বুট ভুনা, খেজুর, শসা, গাজর, তরমুজ ইত্যাদিসহ একেক দিন একেকটি আইটেম থাকবে প্যাকেটে। প্রতিদিন ২০০ জন রোজাদারের জন্য খরচ পড়বে ১৬ হাজার টাকা। পুরো একমাসে অর্থাৎ রমজানের ৩০ দিনে সর্বমোট খরচ পরবে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহতী এ উদ্যোগের কথা জানিয়ে একটি পোস্ট করেছেন বিথী। সেখানে তিনি বলেছেন, এই কার্যক্রমে সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ সহযোগিতা করতে পারবেন। একটি প্যাকেটের জন্য ৮০ টাকা করে, অথবা এক দিনে ২০০ জনের দায়িত্ব নিতে যে কেউ এগিয়ে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কেউ যদি পরিচয় গোপন রাখতে চান, তাও করা হবে। এই উদ্যোগে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে বিকাশ ও নগদ করতে পারেন +৮৮০১৮৬৭৫৭৮২৩০ নম্বরে। এ ছাড়া রকেট নম্বরেও +৮৮০১৮৬৭৫৭৮২৩০৬ সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।

করোনা মহামারিতে এই কার্যক্রম শুরু করেছিলেন বিথী। এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সমাজের অসহায়-দুস্থ মানুষের জন্য কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠিত উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি অ্যান্ড হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।

সেবামূলক কাজের জন্য বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া আরিফা জাহান বিথী বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ, আমরা সবাই মাধ্যম মাত্র। যারা পাশে থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা আমার। সবার সহযোগিতা পেলে রমজানজুড়ে অসহায়-দুস্থ মানুষদের ইফতার করানো অব্যাহত রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, আরিফা জাহান বীথি ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলেছেন। ঢাকার ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান, রায়েরবাজার ক্রিকেট দলে ওপেনিং ব্যাট করতে নামতেন। ২০১৭ সালে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্রিকেট ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে হয়েছে তাকে।

ঢাকা থেকে রংপুরে ফিরে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামে নারীদের জন্য উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি নামে প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়েন বিথী। সেখানে কয়েকশ নারীকে বিনামূল্যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি।

করোনা মহামারির শুরুর দিকে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সেবার জন্য ফেসবুকে সবার কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছিলেন আরিফা জাহান বিথী। তার আহ্বানে ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেনসহ অনেকেই সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়ান। করোনাকালীন সময়ে নিজের জমানো টাকা আর অন্যের আর্থিক সহযোগিতার সমন্বয়ে কয়েক হাজার মানুষের দুয়ারে চাল, ডাল, তেল, লবণ, ফল, দুধ, ডিম ও হরলিকসসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিয়েছেন।

তখন থেকে অসহায়, দুস্থ, কর্মহীন মানুষের পাশাপাশি সন্তানসম্ভবা নারীদের সেবামূলক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। এরপর থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন এই ক্রিকেটার।

ইতোমধ্যে তার সহযোগিতায় শতাধিকের বেশি নারীকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গৃহহীন বৃদ্ধা মা-বাবা পেয়েছেন নতুন ঘর। সহায়-সম্বলহীন শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে ভর্তির জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন বিথী। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি পবিত্র কুরআন মাজীদও বিতরণ করে আসছেন বিথী।

Leave a comment