সিয়াম ইসলাম প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম
ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসবের আমেজ। কিন্তু রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামের ছোট্ট বাড়িটিতে এবার ঈদের আনন্দ যেন বিষাদে রূপ নিয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পরিবারে ঈদের কোনো উল্লাস নেই। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে পরিবারটি।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, যিনি পেশায় একজন দিনমজুর, ঈদের সকালে যখন অন্য বাবারা সন্তানদের হাত ধরে ঈদগাহে যান, তখন তাকে যেতে হয়েছে ছেলের কবরের পাশে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি কেবল ছেলের জন্য দোয়া করেছেন। মকবুল হোসেনের ছয় ছেলের মধ্যে আবু সাঈদ ছিলেন সবার ছোট। আদরের সন্তানকে হারিয়ে তিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।
ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তেও আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগমের চোখে শুধুই জল। প্রতি বছর ঈদের সকালে আবু সাঈদের পছন্দের গরুর মাংস রান্না করতেন তিনি। কিন্তু এবার সেই খাবার যেন গলায় আটকে যাচ্ছিল। ছেলের স্মৃতিগুলো বারবার ভেসে উঠছিল তার মনে।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলীর কথায়ও ছিল একই বেদনা। তিনি বলেন, 'ভাইকে ছাড়া এই প্রথম ঈদ কাটালাম। প্রতি বছর ও বাড়ি এলে ঈদের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যেত। কিন্তু এবার সব আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে। ভাইয়ের কবর দেখলেই চোখে পানি চলে আসে।'
ছোট বোন সুমি খাতুনের স্মৃতিতেও ভাই আবু সাঈদ যেন জীবন্ত। ঈদের সময় ভাই তার বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা, মেহেদি কিনে আনতেন। সুমি বলেন, 'ভাইয়ের স্মৃতিগুলো এখনো আমার মনে জীবন্ত। মনে হয়, এই বুঝি ভাই এসে হাজির হবে।'
আবু সাঈদের আরেক ভাই আবু হাসান জানান, প্রতি বছর তারা সবাই মিলে গ্রামের জামে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তেন। সেই মসজিদটির নাম এখন 'শহীদ আবু সাঈদ জামে মসজিদ'। এই নাম যেন তাদের বেদনার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। গত বছরের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুতে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট সরকারের পতন ঘটে।
আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা এখন শুধু একটাই প্রার্থনা করেন, তাদের প্রিয় সন্তান যেন জান্নাতবাসী হন। আর দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী অন্যান্য শহীদদের আত্মাও যেন শান্তি পায়।