বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বালুমহাল ইজারা দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে এক সেনা সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের ২০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার, নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার বিআইডব্লিউটিসি ভবনের রিচমার্ট হোটেল থেকে অপহৃত সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার, চাঁদপুরের মতলব থানার বাসিন্দা আব্দুল মতিন কাজী ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
দেশে কোনো জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি: সেনাপ্রধান
ঈদে টানা ৯ দিনের ছুটি সরকারি চাকরিজীবীদের
অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন, ডাক্তাররা শুধু বলছেন আল্লাহ ভরসা
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিচমার্ট হোটেল থেকে উদ্ধারকৃত তিনজনকে মঙ্গলবার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে, বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নূর হোসেন সুজন (৩৫), হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইমরান খন্দকার (৩৫) এবং হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন (৪২)।
মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুল আলম মিঠু, বরিশাল জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান (মাসুদ রাঢ়ি), মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল, মহানগর যুবদল নেতা বেলায়েত হোসেন, গণপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহিদ, মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নিজামুর রহমান নিজাম।
মামলার সাক্ষী আব্দুল বাসেত জানান, বালুমহাল ইজারা নেয়ার জন্য দরপত্র জমা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের বাধা দেন। জোর করে দরপত্র জমা দেয়ার পর তারা সন্ত্রাসী আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে, তারা মতিনের ভাতিজা, সেনা সদস্য জাফরকে অপহরণ করে রিচমার্ট হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার স্বর্ণালংকার, আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী রিচমার্ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।
অভিযুক্ত ফরিদা বেগম দাবি করেছেন, ৩৩টি দরপত্র বিক্রি হলেও বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, মতিনরা দুটি দরপত্র জমা দিয়ে বালুমহালটি দখল করেছে।
অন্য একজন দরপত্র ক্রেতা মফিজুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে ৩ কোটি টাকার পে-অর্ডার করেও দরপত্র জমা দিতে পারেননি। তিনি মেঘনার বালুমহালের পুনঃদরপত্রের জন্য আবেদন করবেন।