জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের যমুনা নদীর আগ্রাসী ভাঙনে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শত শত মানুষ এখন নিঃস্ব। যমুনার করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত জমি ও ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চোখে এখন শুধুই আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা। বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে হাজার হাজার বাড়িঘর, উর্বর আবাদি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যমুনা নদীর পূর্ব তীরে বাহাদুরাবাদ নৌ-পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন খোলাবাড়ি থেকে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চর মাগুরীহাট, কিশোর মোড়, মধুর ভাঙ্গা গ্রাম, হাজারী গ্রাম, চর ডাকাতিয়া পাড়া, খান পাড়া ও মাঝি পাড়া গ্রামগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া চর ডাকাতিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ভাঙনের কবলে পড়েছে।
The temperature of Bangladesh today is higher than the Middle East
শেরপুর ও ময়মনসিংহে আকস্মিক বন্যা, তলিয়ে গেছে ১৬৩ গ্রাম
Thunderstorms are forecast across the country
টাকিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাক স্কুল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক, খানপাড়া জামে মসজিদ, খানপাড়া ঈদগাহ মাঠ, নূরানি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসাসহ বহু মসজিদ, মাদ্রাসা এবং কোটি কোটি টাকার গ্রামীণ অবকাঠামোও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাঝিপাড়া গ্রামের কৃষক ছরোয়ার উদ্দিন তার কষ্টের কথা ব্যক্ত করে বলেন, একসময় আমাদের অনেক জমিজমা ও বাড়িঘর ছিল। সর্বনাশা যমুনা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন অন্যের জমিতে মাথা গুঁজে দিন কাটাই। দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চলে। এখন আবার ভাঙন শুরু হয়েছে, শেষ সম্বলটুকুও বুঝি আর থাকবে না।
যমুনা পাড়ের বাসিন্দা পলাশ খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে যমুনার ভাঙন অব্যাহত আছে। খানপাড়া আদর্শ গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। খানপাড়া, মাঝিপাড়া ও কাজলাপাড়ার কিছু অংশও নদীতে হারিয়ে গেছে। এসব গ্রামের বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে চলে গেছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতাউর রহমান জানান, যমুনার ভাঙনের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।