বরগুনার পোটকাখালী সরকারি আবাসন এলাকার বাসিন্দাদের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান। অভাব-অনটন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়ায় তাদের ঈদ উদযাপন যেন এক কঠিন বাস্তবতা।
চম্পা বেগম, জেলে ফোরকানের স্ত্রী, তার কষ্টের কথাগুলো জানাতে গিয়ে বলেন, "ঘরে চাল নেই। বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদছে। কর্মকর্তারা কিস্তির টাকা চাইতে আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। আমার স্বামী সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না। আমাদের মতো গরীবদের কি আর ঈদ আছে? বাচ্চাদের জন্য কিছুই কিনতে পারিনি, নিজেদের কথা তো বাদই দিলাম। আল্লাহ যদি চান, তবেই ঈদ হবে, না হলে নেই।"
When will Shakib return home, play in the Super League?
ঈদের আগে সোনার দামে নতুন রেকর্ড
শেরপুরে গারো পাহাড়ে আগুন ; নেপথ্যে শালবাগান ধ্বংসের পায়তারা ও জবরদখলের অভিযোগ !
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফোরকান সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তাদের জীবনযাত্রার মান খুব একটা উন্নত হয়নি। সাগরে মাছ ধরে যা আয় হয়, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। প্রায় সারা বছরই তারা ঋণ আর ধার-দেনার মধ্যে ডুবে থাকেন। এই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের পরিবার প্রায় না খেয়ে দিন কাটায়। ঈদের সময় ভালো খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে বাচ্চাদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়া তাদের কাছে স্বপ্নের মতো।
জেলে ফোরকান বলেন, "আমি সাগরে মাছ ধরে সংসার চালাই। কিন্তু জলদস্যুদের ভয়ে গত এক মাস ধরে সাগরে যেতে পারছি না। এখন আমি বেকার। সরকারি সাহায্য যা পাই, তা দিয়ে আমাদের কিছুই হয় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলদস্যু আর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। ঈদের সময় বাচ্চারা কান্নাকাটি করলেও, তাদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার নেই। আমরা কীভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না।"
ফোরকানের মেয়ে ফারজানা জানায়, "বাবা এবার মাছ ধরতে গিয়ে তেমন মাছ পায়নি। তাছাড়া, সাগরে ডাকাতের ভয়ে সে বাড়ি ফিরে এসেছে। যদি বেশি মাছ পেত, তবে আমাদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দিত। এখন বাবার কাছে টাকা নেই, তাই আমাদের ঈদও হবে না। আমি বাবার কষ্ট বুঝি, কিন্তু আমার ছোট ভাই-বোনেরা তো তা বোঝে না। তারা বাবার কাছে নানা আবদার করে কান্নাকাটি করে।"