Dhaka, শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫

রোজায় রহমতের ১০ দিনে যা করণীয়

সিয়াম ইসলাম

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৫, ০২:০৭ পিএম
Bangla Today News

 

রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন হলো রহমত। তার দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত এর শেষ ১০ দিন হলো নাজাত। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, প্রথম ১০ দিন আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি রহমত বা দয়া বণ্টন ও বিতরণ করতে থাকবেন। (সহিহ ইবনে খুজাইমা ১৮৮৭)

 

এই মাসে পবিত্র কোরআনুল কারিম অবতীর্ণ হয়েছে। এই মাসে আমাদের প্রকাশ্য দুশমন বিতাড়িত শয়তানকে দয়াময় আল্লাহ লোহার শেকল দ্বারা বন্দি করে রাখেন। এই মাসে জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয়। এটা অল্লাহর অফুরন্ত রহমতেরই প্রকাশ।

 

রহমতের মাস রমজানজুড়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নেক কাজে নিয়োজিত থাকা অনেক সহজ। তাই রমজানের রহমতের দশকে আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে রোজাদারের করণীয় হলো: ১. দিনের বেলা একনিষ্ঠতার সঙ্গে রোজা পালন করা। ২. জামাতে নামাজ আদায় করা। ৩. রাতের তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া। ৪. কোরআন তিলাওয়াত করা। ৫. দান-সদকা করা। ৬. আল্লাহর জিকির করা, তাকওয়া অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।

 

রমজানে রহমত বা অনুগ্রহ পাওয়ার ঘোষণা রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়ার নিয়তে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার বিগত জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’

 

প্রথম দশকে আমরা কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া বেশি বেশি পাঠ করতে পারি। وَقُل رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ উচ্চারণ: ওয়া কুর রব্বিগফির ওয়ার হাম ওয়া আনতা খইরুর রহিমিন।

 

অর্থাৎ: আর বলুন, হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন ১১৮)

 

রোজাদার যেন একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন, সে জন্য রমজানের প্রথম রাতেই অর্থাৎ প্রথম দশকে শয়তানকে বন্দী করা হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.)– এর বর্ণনায় আছে যে রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে বন্দী করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। 

 

জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়ার অর্থ হলো নেক আমল করা সহজ হয়ে যাওয়া। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হলো বদ আমলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলার অর্থ হলো রমজানের আগে তারা স্বাধীনভাবে যথেচ্ছ বিচরণ করেছে এবং বান্দাকে কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা দিয়ে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; রমজানের প্রথম রাতেই তাদের বন্দী করা হয়, যেন রোজাদারকে ধোঁকা ও প্রতারণা দিয়ে বিজ্ঞান্ত করতে না পারে। 














 

Leave a comment