Dhaka, শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

যাদেরকে জাকাত দেয়া যাবে

সিয়াম ইসলাম

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ, ২০২৫, ০১:৫৫ এএম
Bangla Today News

জাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং একটি আর্থিক ইবাদত, যা আদায় করা ফরজ। পবিত্র রমজান মাস আসে, যেখানে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে নৈকট্য লাভের জন্য বেশি বেশি ইবাদত এবং দান-খয়রাতের মাধ্যমে পুণ্য অর্জন করতে পারেন। এই সময়ে মুসলিমরা জাকাত প্রদান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা জাকাতের খাত বা উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এবং এ ছাড়া অন্য কোনো খাতে জাকাত দেওয়া যাবে না। 

আল্লাহ তাআলা তাঁর কোরআনে বলেছেন:

اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ؕ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ۝۶۰

অর্থ: "যাকাত শুধু গরিব, অভাবী, যাকাতের কাজের জন্য নিযুক্ত ব্যক্তিদের, যারা হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুগত এবং মুক্তিপণের জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী এবং পথযাত্রীদের জন্য। এটি আল্লাহর আদেশ, এবং আল্লাহ সবকিছু জানেন ও প্রজ্ঞাময়।" (সূরা তওবা: ৬০)

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, 

১. যেসব লোকের কাছে অল্প কিছু সম্পদ আছে বা একদিনের খাদ্যও নেই, তাদেরকে জাকাত প্রদান করা যাবে। তাদের শরীয়ত অনুযায়ী গরিব হিসেবে বিবেচিত করা হয়।


২. যাদের কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ আছে, যেমন সোনা, রূপা, টাকা-পয়সা, অথবা ব্যবসায়িক পণ্য যা নিসাব পরিমাণে পৌঁছেছে, তাদের জাকাত প্রদান করা যাবে না, কারণ তারা ধনী হিসেবে গণ্য।

৩. যদি কারো কাছে এমন সম্পদ থাকে, যা জাকাতযোগ্য নয়, যেমন ঘরের আসবাব, পোশাক, জুতা ইত্যাদি যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত, তবে তাদেরও জাকাত দেওয়া যাবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭১৫৬)

এভাবে, ইসলামে জাকাতের নিয়মাবলী পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে, এটি শুধু প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য।
 

Leave a comment