বিতর্কের মুখে যুক্তরাজ্যের অর্থ ও নগরবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগের পর তার স্থলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে লেবার পার্টির এমপি এমা রেনল্ডসকে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নতুন অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার হিসেবে গত বছরের জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত ৪৭ বছর বয়সী এমা রেনল্ডসকে নিয়োগ দেন। তিনি এর আগে ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি) মন্ত্রণালয়ের পেনশন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একইসঙ্গে জুনিয়র ট্রেজারি মন্ত্রীও ছিলেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগ গ্রহণ করার পরপরই যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ে পুনর্গঠন ঘোষণা করল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট।
হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় ফের বাড়ল
The solution given by Irfan-Mudira in the Mustafiz-Pathirana issue
মেসির হ্যাটট্রিকে বলিভিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা
এমা রেনল্ডস বর্তমানে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ওয়াইকম্ব নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এর আগে তিনি ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মধ্য ইংল্যান্ডের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচন করে আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে নিজের নাম জড়ানোর পরই পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দেন টিউলিপ। পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হয়।
সম্প্রতি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এরপর নিজের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ মিনিস্ট্রিয়াল ওয়াচডগকে তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন মিনিস্ট্রিয়াল ওয়াচডগের উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাস।
তবে লরি ম্যাগনাস তার পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, টিউলিপ সিদ্দিকের মালিকানাধীন বা বসবাসকৃত সম্পত্তি বা টিউলিপের কোনো সম্পদ বৈধ উপায় ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করার পর, স্যার লরি নিশ্চিত করেছেন যে, টিউলিপ মন্ত্রিত্ববিধি ভঙ্গ করিনি।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে লন্ডনে শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠের কাছ থেকে উপহার নেয়া ছাড়াও; সাবেক এক বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের দুটি টিকিট নিয়েছিলেন টিউলিপ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যান্য আরও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এসবের মধ্যে দেশটির বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি টিউলিপকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিল। তারা বলছিল, টিউলিপের ওপর ব্রিটেনের দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারই নাম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছে। এতে তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনের নৈতিকতা হারিয়েছেন।