গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন হায়দ্রাবাদ এলাকায় ঘোড়ার মাংস বিক্রি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযানে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) গাজীপুরের সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দীন এবং গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন মিয়া এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় মাংস বিক্রেতা শফিকুল ইসলামকে ডেকে এনে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করে ঘোড়ার মাংস বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
UNO's wife blackmailed by threatening to spread video, bodyguard arrested
3.4 lakh children living on streets in country: Research
15 million cubic feet of gas will be obtained daily from well number 14 of Titus
এদিকে, ঘোড়ার মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত সোমবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়কালে ঘোড়ার মাংস বিক্রি বন্ধের দাবি জানানো হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার এ অভিযান পরিচালিত হলো।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন মিয়া জানান, "২০১১ সালের পশু জবাই ও মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যতীত এবং লাইসেন্স ছাড়া পশু জবাই ও মাংস বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে এক বছরের জেল জরিমানার বিধান রয়েছে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হায়দ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও নুরুল্লাহ মামুন কয়েক বছর আগে দুবাই ভ্রমণের সময় সেখানকার হোটেলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হতে দেখেন। এরপর দেশে ফিরে তারা পরীক্ষামূলকভাবে একটি ঘোড়া জবাই করে পরিবারের মধ্যে ভাগ করে নেন। পরে, চলতি বছরের শুরুর দিকে তারা মহানগরীর হায়দ্রাবাদ এলাকায় দোকান দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি শুরু করেন।
শুরুতে প্রতি শুক্রবার প্রতিকেজি ঘোড়ার মাংস ২৫০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়। প্রথমে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ১০টি পর্যন্ত ঘোড়া জবাই করে বিক্রি করা হয়, এবং মাংস সংগ্রহ করতে ক্রেতাদের টোকেন নিয়ে লাইন ধরতে হতো। পরে চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যায়। সর্বশেষ ৩০০ টাকা কেজি দরে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করা হচ্ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিন জানান, "দেশে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি অপ্রচলিত। তাই বিভিন্ন মহল থেকে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রিতে আপত্তি উঠেছে। এ অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "মাংস বিক্রেতা শফিকুল ইসলামকে ডেকে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধ না মানলে বুধবার থেকে ২০১১ সালের পশু জবাই আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।