সংবিধানে ব্যাপক সংশোধন আনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও দেশে গণপরিষদের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করে বিএনপি। দলটি মনে করে, নতুন সংবিধান নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন করাই যথেষ্ট। রোববার (২৪ মার্চ) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে নিজেদের মতামত তুলে ধরে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির লিখিত মতামত কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে জমা দেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সংবিধানের ব্যাপক সংশোধন চাই, তবে গণপরিষদের কোনো প্রয়োজন নেই।" তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশ একটি পুরাতন রাষ্ট্র, এখানে নতুন সংবিধান রচনার প্রয়োজন নেই, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে।
বিএনপি মনে করে, গণভোটের প্রয়োজন তখনই হবে, যখন সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা মনে করি, এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা উচিত; গণভোট নয়।”
বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিম্ন আদালতের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আদলে আলাদা লোয়ার জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
এছাড়া, প্রশাসন সংস্কারের ২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে বিএনপি প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে একমত হলেও বাকিগুলোতে ভিন্নমত পোষণ করেছে।
বিএনপি মনে করে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করা যাবে না। দলটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইসির হাতেই রাখার পক্ষে। এছাড়া, সীমানা নির্ধারণের এখতিয়ারও নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা উচিত বলে মত দিয়েছে বিএনপি।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের ‘রিপাবলিক’ বা ‘জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ নামে রাষ্ট্রের নতুন নামকরণ করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বিএনপি। তারা মনে করে, “দীর্ঘদিনের প্রচলিত নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই।”
বিএনপি নারীদের জন্য সংসদীয় আসন সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ করার সুপারিশের পক্ষে থাকলেও উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ৬ মার্চ সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে মতামত চেয়েছিল। ১৩ মার্চের মধ্যে মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও বিএনপি অতিরিক্ত সময় নিয়ে গতকাল তাদের মতামত জমা দেয়।
বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল দলের লিখিত মতামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের হাতে তুলে দেয়। কমিশন এখন দলগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করছে, ঈদের পর বিএনপির সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হবে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্য গড়ে তুলে একটি সনদ প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এ সময় কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার উপিস্থিত ছিলেন।