২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নের শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা, এবার মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের জন্য সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা গভীর জঙ্গলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে মোহাম্মদ আয়াস নামক এক রোহিঙ্গা যুবকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। আয়াস, যিনি রোহিঙ্গা শিবিরে শিশুদের বার্মিজ ভাষা শেখান, জানান যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখন একত্রিত হয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের 'মাতৃভূমি ফিরে পাওয়ার' পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
মহানবী (সা.) যে কারণে বনি ইসরায়েলকে অভিশপ্ত বলেছেন
First-Ever 'Made in Bangladesh' Commercial Drones Set for Export to Global Markets
সাকিবকে ছাড়া ওয়ানডে দল ঘোষণা, অধিনায়ক মিরাজ
আয়াসের মতো আরও অনেক রোহিঙ্গা যুবক স্বেচ্ছায় সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি, যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন।
কক্সবাজার শিবিরের এক কমান্ডারের ভাষ্যমতে, রোহিঙ্গারা সপ্তাহ বা মাসের জন্য গোপনে মিয়ানমারে গিয়ে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তারা সামরিক জান্তা এবং তাদের বিরোধী বিদ্রোহী গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোর দাবি, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে উভয় পক্ষই তাদের গণহত্যা ও জোরপূর্বক সেনাদলে ভর্তি করছে। রোহিঙ্গা যোদ্ধারা জানান, অং সান সু চি যদি ক্ষমতায় ফিরেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তবে তারা আর অপেক্ষা করতে রাজি নন।
আয়াস জানান, তিনি ছয় মাস জঙ্গলে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারা প্রতিদিন তাঁবু বদলিয়ে সেনাবাহিনীর চোখ এড়াতেন। ভোর থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হতো। গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কেউ অস্ত্রচালনা, মার্শাল আর্ট শিখতেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা শত্রুর গতিবিধি ট্র্যাক করায় প্রশিক্ষণ নিতেন।